মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

 যেসব কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে আপনার ফেসবুক আইডি বা পেইজ 












বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করে প্রসারিত হয়েছে অনলাইন ব্যবসা। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নানা কন্টেন্ট বানিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। কিন্তু সম্প্রতি কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, হঠাৎ করে তাদের ফেসবুক পেইজ বা আইডি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর কারণ তাদের কাছে অজানা। 

তিন বছর ধরে রাজধানী ঢাকার ফাবিহা হাসান মনিষা নামে একজন তরুণী “ফুড আপ্পি’ নামক একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন।

তিনি তার ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করে সেগুলো আপলোড করেন তার ফেসবুকে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেন।

তিন বছরের মধ্যে তার পেজে ফলোয়ার দাড়ায় ১.৫ মিলিয়ন বা পনেরো লাখ। কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৪ এপ্রিল তার এই পেজটি উধাও হয়ে যায় ফেসবুক থেকে। নানা চেষ্টা করেও তিনি এখনো পর্যন্ত তার ফেসবুক পেজটি আর খুঁজে পাননি।

একই নামে গত বৃহস্পতিবার নতুন একটি ফেসবুক পেজ চালু করে মিজ মনিষা লাইভে এসে জানান, ফেসবুকে কিছু ব্যক্তি তাদের পেইজে ফেইক কপিরাইট স্ট্রাইক দিয়েছিলেন। যে কারণে কর্তৃপক্ষ ফেসবুক থেকে তাদের পেজটা ডিজেবল করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে এমন অনেক ব্যক্তিগত একাউন্ট ও পেইজ ‘ডিজেবল’ হয়ে গেছে। যারা শত চেষ্টা করেও তাদের একাউন্ট ফেরত আনতে পারছেন না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট-এর কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ও আইটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আশিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ফেসবুক একটি ফ্রি জিনিস। এটা যদি একটা পেইড অ্যাপস হতো, তাহলে হয়তো কর্তৃপক্ষ চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স করে ব্লক করার আগে নোটিফাই করতো। এ কারণেই কোন আইডি বা পেজ ব্লক হওয়ার পর ইমিডিয়েট সুরক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না”।

চলতি মাসে ট্রান্স জেন্ডার নিয়ে একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান ও সামিরা খান মাহি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই নাটকটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। এরপরই এই দুই অভিনেতা-অভিনেত্রীর ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ‘ডিজেবল’ হয়ে যায়।

যদিও পরে তারা আবার ফেরত পান তাদের নিজ নামের ফেসবুক পেইজ দুটি।

সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে ফেসবুক সাপোর্ট সিস্টেমে মানুষের পরিবর্তে রোবটের ব্যবহার কারণে তাদের সাপোর্ট সিস্টেম বেশ ব্যহত হচ্ছে।

যে কারণে কোন ধরণের যাচাই বাছাই ছাড়াই হঠাৎ করে ফেসবকু একাউন্ট বা পেজ ডিজেবল হয়ে যাচ্ছে। 












ডিজেবল হয় কেন? 
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য মেটার স্পষ্ট বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে। যেটিকে বলা হয় কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড গাইডলাইন।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন ছয়টি ভাগে বিভক্ত।

এক- সহিংসতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ, দুই- নিরাপত্তা, তিন- আপত্তিজনক কনটেন্ট, চার- সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা, পাঁচ- মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি), ছয়. অনুরোধ ও সমাধান।

কমিউনিটি স্টান্ডার্ডের মধ্যে ফেসবুক বা মেটা কর্তৃপক্ষ সহিংসতা, অপরাধ ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

গাইডলাইনে বলা আছে, ফেসবুকে কোনো প্রকার টেরোরিজম বা জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালানো যাবেনা। অর্থাৎ আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত কোন ব্যক্তি বা সংগঠন সম্পর্কে কোনো পোস্ট করলে বা ছবি আপলোড করলে তা কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভায়োলেশন হিসেবে ধরা হবে। এবং রিপোর্ট করা মাত্রই আপলোড করা কন্টেন্টসহ পুরো ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ রিমুভ হয়ে যাবে।

এছাড়া আপত্তিজনক কনটেন্ট, হিংসাত্মক বক্তব্য, জাতি অথবা মানুষের ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করলেও তা নিয়ে রিপোর্ট হলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। এক্ষেত্রে কখনো কখনো কয়েকদিনের জন্য পোস্ট বা কমেন্টস করা থেকে বিরত রাখা হয় অনেককে।

এছাড়া ধর্ষণ, মৃতদেহ ও দুর্ঘটনাসহ নিম্নে উল্লেখিত বিষয়াবলির ছবি অথবা ভিডিও পোস্ট করলে, দুর্ঘটনা আগুন কিংবা রক্তপাতের ছবি দৃশ্য প্রচার করলে, শ্মশানে মৃতদেহ পোড়ানো, যে কোনো ধরনের নির্যাতন- শিশু যৌন নির্যাতন, নারী যৌন নির্যাতন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক নির্যাতন, প্রাণী শিকার, প্রাণী হত্যা, প্রাণী জবাই, প্রাণীর ক্ষত বা কাটা দৃশ্যমান ছবি বা ভিডিও প্রচার কররেও তড়িৎ ব্যবস্থা নেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আশিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফেসবুক তাদের নিয়ম নীতির বিষয়ে বেশ সতর্ক। এসব নীতিমালা ফলো করা না হলে কিংবা এসব বিষয়ে রিপোর্ট হলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত আইডি, পেইজ বা গ্রুপ ডিজেবল করে দেয়। 



সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুকে ভিডিও কন্টেন্টের ক্ষেত্রে রাইটস ম্যানেজার নামে একটি টুলস রয়েছে।

যখন কোন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নিজের একটি কন্টেন্ট তৈরি করে তার পেইজে আপলোড করেন, তখন সেই ভিডিওটি অন্য কেউ চাইলে ডাউনলোড করে রাখতে পারে।

শুরুর দিকে, অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাইটস ম্যানেজার ব্যবহারের অনুমতি পাননা। ফলে তারা কন্টেন্ট তৈরি করলেও সেখানে তাদের মালিকানা স্বত্ব বা কপিরাইট পুরোপুরি নিশ্চিত হয় না।

ফলে নতুন ক্রিয়েটরদের অনেক ভিডিও ডাউনলোড করে অন্য (পুরাতন) ক্রিয়েটররা তাদের রাইটস ম্যানেজারে সেগুলো আপলোড করেন। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও আসলে যিনি ওই কন্টেন্টটি তৈরি করেছেন, তার পক্ষে মালিকানা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুকের দুর্বলতার কারণে রাইটস ম্যানেজার ব্যবহার করে একজনের ভিডিওর স্বীকৃতি আরেকজন নিয়ে নিচ্ছে।

কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থাপনার কারণে ফেসবুক উল্টো মূল ক্রিয়েটরের পেইজ ডিজেবল করে দিচ্ছে।

এক্ষেত্রে মুক্তি ডিজেবল একাউন্ট বা পেইজ ফিরে পেতে কতদিন সময় লাগতে পারে বা প্রক্রিয়া কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কখনো কখনো ছয় মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় লাগে। আবার কখনো কখনো একেবারে ফেরত নাও আসতে পারে যদি সেটি সঠিকভাবে নিবন্ধন করা না থাকে।

ব্যক্তিগত একাউন্ট বা পেইজের ক্ষেত্রে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ- নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট/পেইজে ব্যবহৃত ই-মেইল এড্রেস বা ফোন নম্বর ব্যবহার করুন।

অবশ্যই এই ই-মেইল অ্যাকাউন্ট বা ফোন নম্বরে অ্যাক্সেস থাকতে হবে। যে মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীদের সাথে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করতে পারে।

এছাড়া ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও পেইজ খোলার ক্ষেত্রে আসল নাম ব্যবহার করার পরামর্শ তাদের। কেননা এটি ফিরে পেতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র দরকার হয়।

সেগুলোতে কোন ব্যক্তির পুরো নাম থাকে। সুতারং আইডি কার্ডের নামে একাউন্ট না থাকলে অনেক সময় ফেসবুক একাউন্ট ফেরত পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। 












ডিজেবল হলে কী করবেন? 
ফেসবুকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অমান্য করলে ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেকে আইডি লিমিট (রেস্ট্রিকটেড) করে দেয়। কখনো সাত দিন বা এক মাসের জন্য পোস্ট করা বন্ধ, কখনো কমেন্ট ও শেয়ার করা বন্ধ হয়।

তবে এই সমস্যাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর ঠিক হয়ে যায়। এর মধ্যে যদি কারও আইডি ভুয়া মনে হয় তাহলে তার আইডি নিষ্ক্রিয় (ইনঅ্যাক্টিভ) করে দেওয়া হয়।

এক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে সারাবিশ্বে বিশেষ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফেইসবুক ভেরিফাইড একাউন্ট বা পেইজ সিস্টেম চালু করেছে।

যেখানে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে আবেদন করলে অনেক একাউন্ট ও পেইজ ভেরিফাইড করে থাকে মেটা বা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু কখনো কখনো দেখা যাচ্ছে, নীতিমালা ভঙ্গ বা অন্য কোন কারণে ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ কিংবা একাউন্টও জিজেবল হয়ে যাচ্ছে।

এটিকেও মেটা কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, অনেক অসাধু কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নিজেদের স্বার্থে ফেসবুকের নীতিমালার অপব্যবহার করে বিভিন্ন আইডি কিংবা পেইজে রিপোর্ট করছে। যার ফলে ফেসবুকের রোবটিক সিস্টেমে কোন কোন একাউন্ট বা পেইজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এই বিষয়গুলোকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ।

তবে বুয়েটের অধ্যাপক রহমান বলছেন, ‘রুলস ও কমিউনিটি স্টান্ডার্ড পুরোপুরি মেনে বাংলাদেশের অনেকে ফেসবুক ব্যবহার না করার কারণে অনেক ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তবে ফেসবুকের গাইডলাইনের বাইরে ব্যবহারকারীদের নিজে থেকেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন”। 











 প্রযুক্তিতে শীর্ষে আমেরিকা 

প্রযুক্তির জয়গান চলছে বিশ্বজুড়েই। জীবন সহজ করতে নিত্য নতুন প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো। বিশ্বব্যাপী এখন শীর্ষে রয়েছে প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলোই। আর এই প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের শীর্ষে রয়েছে যে প্রতিষ্ঠানগুলো তার প্রায় সবই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক। এরাই বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। নতুন নতুন বাজার তৈরি করে ব্যবসায়িক দিক থেকেও সফলতা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলো নিয়েই আজকের রকমারি- 








সার্চ ইঞ্জিন থেকে পরিণত হয়েছে টেক জায়ান্টে 

গুগল

গুগল লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ও পণ্যে বিশেষায়িত একটি বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিটি সার্চ ইঞ্জিন থেকে পরে ইন্টারনেট ও টেক জায়ান্টে পরিণত হয়েছে। অনলাইন বিজ্ঞাপন সেবা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের জন্যও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি ইন্টারনেটভিত্তিক বেশকিছু সেবা ও পণ্য উন্নয়ন এবং হোস্ট করে। সাম্প্রতিক সময়ে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর সর্বশেষ গুগল গ্লাস চমক জাগিয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির ছাত্র থাকাকালীন ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালে গুগল নির্মাণ করেন। গুগলের ১৪ শতাংশ শেয়ার তাদের এবং বিশেষ সুপারভোটিং ক্ষমতার মাধ্যমে ৫৬ শতাংশ স্টেকহোল্ডারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 







 ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে?

প্রকাশ: ২২মে ২০২৪, ১২:৪৩



 ইন্টারনেটে যে তথ্য বা ভিডিও খুঁজছেন তা গুগল ডাটা সেন্টার থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মানুষের হাতের নাগালে এসে পৌঁছেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এতো দূরের ডাটা সেন্টার থেকে কিভাবে মোবাইল বা ল্যাপটপে ভিডিওটি চলে এলো? 


কিভাবে পুরো বিশ্বে তথ্য বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, কিভাবে ইন্টারনেট কাজ করছে, আর ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটাই বা কী? 


ইন্টারনেট কী

প্রথমেই জানতে হবে, ইন্টারনেট বা অন্তর্জাল আসলে কী? এটি মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অগণিত কম্পিউটার ও ডিভাইসসমূহের মধ্যে আন্তঃসংযুক্ত একটি নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ সারা পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার ও ডিভাইস নেটওয়ার্কের সমষ্টি হলো ইন্টারনেট, যা সবার জন্য উন্মুক্ত একটি নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা। ভিনটন গ্রে কার্ফকে বলা হয় ইন্টারনেটের জনক। তখন এর নাম ছিল 'আর্পানেট'। 


পৃথিবীর সব কম্পিউটার কিভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত? 

পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটারকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করার জন্য এক ধরনের মজবুত ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। ইন্টারনেট সমুদ্রের নিচে বিস্তৃত প্রায় 8 লক্ষ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল দিয়ে পুরো পৃথিবীকে সংযুক্ত করে রেখেছে জালের মত। এই অভিনব যোগাযোগ ব্যবস্থা সর্বপ্রথম আবিষ্কার হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন বন্ধ না হয়ে যায় এই কারণে 'মিলনেট' নামক একটি কোম্পানি ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করে। তবে বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু হয়। 


ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে 

ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের একটি নিজস্ব ঠিকানা থাকতে হবে, যা আইপি নামে পরিচিত। এর অর্থ ইন্টারনেট প্রোটোকল। প্রত্যেকটা কম্পিউটার কানেকশন এর জন্য আলাদা হয়। 


নেটওয়ার্কিং অবকাঠামো 

ধরুন একজন প্রেরক তার বার্তা পাঠাবেন প্রাপকের কাছে। তিনি কী করবেন, প্রথমে একটা চিঠি লিখবেন,পরে এটি খামে ভরে যে ঠিকানায় পাঠাবেন সেই ঠিকানাটা খামের উপর সুন্দরভাবে লিখে একটা পোস্ট অফিসে গিয়ে জমা দেবেন। তারপর পোস্ট অফিস একজন পোস্টম্যানের মাধ্যমে সেই ঠিকানায় প্রাপকের কাছে চিঠি পৌঁছে দেবে। ইন্টারনেট মূলত এভাবেই কাজ করে। কিভাবে? এই চিঠিতে যা লেখা হয়েছে তা হলো ডাটা। প্রেরক যে পোস্ট অফিস থেকে চিঠিটা পোস্ট করেছেন সেটা হল তার আইপি বা প্রেরকের ঠিকানা। পোস্ট অফিস থেকে খামে উল্লেখ করা প্রাপকের ঠিকানায় চিঠিটা পৌঁছে দিলেন পোস্টমাস্টার আর এই পোস্টমাস্টারই হলো ইন্টারনেট এবং যে ঠিকানায় চিঠিটা পৌঁছানো হলো সেটা হলো প্রেরকের সাথে সংযুক্ত আইপি অ্যাড্রেস বা ঠিকানা। 


ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস 

প্রথমত, অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে। অর্থাৎ ওয়াইফাই, মডেম, ডায়াল আপ ইত্যাদি, যেটা মূলত সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সংযুক্ত। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৯ ভাগ ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত। 


ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে আগে ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস করতে হবে। প্রশ্ন হলো কিভাবে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারি? মূলত দুইভাবে এটি সম্ভব। 

এছাড়া আরও একটি উপায় হলো, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। এর প্রসেসে বর্তমানে শতকরা ১ ভাগ ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত রয়েছে। ইন্টারনেটের কাজ করার জন্য ৩টি ডিভাইসের প্রয়োজন। একটি ডিভাইস, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার চালু থাকবে। 



ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইপি, যেটি থেকে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করা যাবে। আর একটি ওয়েব ব্রাউজার বা অ্যাপ্লিকেশন। যেমন গুগল ক্রোম, মজিলা, ফায়ারফক্স ইত্যাদি। আর এই ব্রাউজার ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে পুরা পৃথিবীর সমস্ত কম্পিউটারের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে। 


ইন্টারনেট কি আশীর্বাদ না অভিশাপ? 

বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যবহার মানুষের জীবনে এতোটাই বেড়ে গিয়েছে যে ইন্টারনেট বন্ধ থাকাকে অনেকে দম বন্ধ থাকার সাথেও তুলনা করেন। অনেকে আবার এর ব্যবহারের অধিকারকে রীতিমতো মানবাধিকার হিসেবে গণ্য করে। ইন্টারনেট নিঃসন্দেহে মানবজাতির জন্য একটি আশীর্বাদ। মেসেজিং, ভিডিও ও অডিও কলিং ফিচারযুক্ত প্ল্যাটফর্মের বদৌলতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ হয়েছে নিরবচ্ছিন্ন। শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যেকোনো তথ্য থাকে হাতের নাগালে। কিন্তু অনেকেই এর ক্ষতিকর দিকগুলোকেই বড় করে দেখেন। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় আনার পাশাপাশি সচেতন হতে হবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে। 

 যেসব কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে আপনার ফেসবুক আইডি বা পেইজ  বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করে প্রসারিত হয়েছে অনলাইন ব্যবসা। বিভিন্ন ব্যক্তি ও ...